চুলের যত্ন কেরাটিন করা - Natore News | নাটোর নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ | বিনোদন খবর

Post Top Ad

Responsive Ads Here
চুলের যত্ন কেরাটিন করা

চুলের যত্ন কেরাটিন করা

Share This


কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করাতে চান অনেকে। তবে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করানোতেই যত্নআত্তির শেষ নয়, বরং কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করা চুলের চাই বাড়তি যত্ন। কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করানোর মানে চুলে রাসায়নিকের ব্যবহার, যা চুলকে নরম করে তোলে।

‘রাজপুত্র অবহেলে কোন্ দেশে যেত চলে


কত নদী কত সিন্ধু-পার।


সরোবর-ঘাট আলা, মণি হাতে নাগবালা


বসিয়া বাঁধিত কেশভার।’


বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘উপকথা’ কাব্যের ‘কেশভার’-এর মতো কেশের অজস্র বর্ণনা বাংলা কাব্যে। প্রেয়সীর মোহনীয় ‘কেশরাজি’ স্থান পেয়েছে প্রেমময় লেখনীতে। রেশমি চুলের টান আজও অটুট। যুগে যুগে কেবল বদলেছে চুলের আকার, আর যত্ন নেওয়ার পদ্ধতি।

আজকের দিনে চুলের ধরনধারণ মনমতো করতে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করাতে চান অনেকে। তবে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করানোতেই যত্নআত্তির শেষ নয়, বরং কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করা চুলের চাই বাড়তি যত্ন। তাই সবটা জেনেবুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো। কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করানোর মানে চুলে রাসায়নিকের ব্যবহার, যা চুলকে নরম করে তোলে। নরম চুলে মনমতো ‘স্টাইল’ করা গেলেও অবশ্যই মনে রাখতে হবে, নরম চুলে যেকোনো উপকরণ প্রয়োগ করার সময় সতর্কতাও চাই সর্বোচ্চ। নইলে চুল পড়ে যেতে পারে সহজেই। তাই যত্ন করার পরামর্শই দিলেন ঢাকার হার্বস আয়ুর্বেদিক স্কিন কেয়ার ক্লিনিকের আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ আফরিন মৌসুমী।

সৌন্দর্যচর্চাকেন্দ্র পারসোনার ধানমন্ডি শাখার ব্যবস্থাপক রেশমা আক্তার বলেন, ‘কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করার পর চুলের যত্ন নেওয়া হলে এই ট্রিটমেন্টের সুফল পাওয়া যায় বেশি সময় পর্যন্ত। কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করা চুলের ওপর চাপ পড়ে, এমন কিছু থেকে বিরত থাকা উচিত। চুল টেনে ঝুঁটি করা বা বেণি করার চেয়ে হালকা করে চুল বাঁধাই ভালো।’ এ ছাড়া চুলে তাপ দেবেন না (যেমন ড্রায়ার ব্যবহার বা কোঁকড়া করা)। সমুদ্রের পানি, সুইমিং পুলের পানি চুলে লাগানো ঠিক নয়। চুলে রং করতে চাইলে কেরাটিন ট্রিটমেন্টের এক-দেড় মাস পর করাতে হবে, তবে ইচ্ছা থেকে থাকলে তা মূলত কেরাটিন ট্রিটমেন্টের আগেই করিয়ে নেওয়া ভালো।


তেল মালিশ


তিলের তেল নিন এক কাপ, সঙ্গে ক্যাস্টর তেল সিকি কাপ এবং নিম তেল এক টেবিল চামচ। মিশিয়ে নিয়ে মালিশ করুন মাথার ত্বকে। খুব জোরে ঘষা যাবে না। মাথার ত্বকে চাপ দিতে হবে আঙুলের ডগা দিয়ে, যাতে রক্ত সঞ্চালন হয় ভালোভাবে। চুলে লাগান আলতোভাবে। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।


এ ছাড়া এক-দেড় মাস পরপর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তেল মালিশ করিয়ে নেওয়া যেতে পারে।


চুলের সাধারণ যত্ন


 হালকা শ্যাম্পু বেছে নিতে হবে (বেবি শ্যাম্পু হতে পারে)। কন্ডিশনার এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করা চুলের জন্য বিশেষ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার কিনতে পাওয়া যায়, এগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে। এ ধরনের কন্ডিশনার প্রয়োগের পর ৮-১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়।


 চুল আঁচড়াতে বড় দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে কাঠের চিরুনি বেছে নিন। মাথাটা একটু নামিয়ে পেছন থেকে সামনের দিকে আঁচড়ান প্রথমে, এরপর আবার সামনে থেকে পেছনে আঁচড়ে ঠিকঠাক করে নিন।


 চুলে বা মাথার ত্বকে নখ দিয়ে চাপ দেবেন না।


 চুলের গোড়া ভেজা থাকতে দেওয়া যাবে না। মাথা ঘেমে গেলে সাবধানে মুছে ফেলুন।


সাপ্তাহিক বা পাক্ষিক যত্ন


 পেঁয়াজ ১টি (ধোয়া নয়), আদা ২-৪ ইঞ্চি (ধোয়া নয়), পাকা কলা ১টি ও মধু ১ টেবিল চামচ একসঙ্গে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। মাথার ত্বকে লাগিয়ে এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে নিন (সপ্তাহে এক দিন)।


 লেবুর খোসা বাটা ১ টেবিল চামচ, ৩-৪ কোয়া রসুন ও ১ কাপ কচি নিমপাতা বেটে নিয়ে মাথার ত্বকে লাগান, ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন (১৫ দিন অন্তর প্রয়োগ করতে পারেন)।


বাড়তি আরও যত্ন


গোটা আমলকী নিন এক কাপ, সঙ্গে মেথি আধা কাপ এবং শিকাকাই ২-৩টি। ৪ কাপ পানিতে জ্বাল দিন উপকরণগুলো। এক কাপ পরিমাণ হয়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন। স্প্রে বোতল বা তুলার সাহায্যে মাথার ত্বকে প্রয়োগ করুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন (শ্যাম্পু করতেও পারেন, না-ও করতে পারেন)। ১ সপ্তাহের জন্য ফ্রিজে রাখা যায়। সপ্তাহের প্রতিদিনই ব্যবহার করতে পারেন ফ্রিজ থেকে নিয়ে।


এ ছাড়া মাসে একবার ডিপ কন্ডিশনিং বা হেয়ার-স্পা করাতে পারেন।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here