কোনটির কেমন ব্যবহার প্রফেশনাল মেকআপ ব্রাশ সেট - Natore News | নাটোর নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ | বিনোদন খবর

Post Top Ad

Responsive Ads Here
কোনটির কেমন ব্যবহার প্রফেশনাল মেকআপ ব্রাশ সেট

কোনটির কেমন ব্যবহার প্রফেশনাল মেকআপ ব্রাশ সেট

Share This


ইউটিউবে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে মেকআপ টিউটোরিয়াল দেখছেন আর ভাবছেন কি সুন্দর ফ্ললেস এবং স্মুদ ফিনিশিং। আপনিও প্রতিটা স্টেপ ফলো করে স্কিন টোনের সাথে ম্যাচ করে ভালো ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট লাগাচ্ছেন কিন্তু তারপরও আপনার মেকআপে কোথায় যেন সেই ফ্ললেস ভাবটা আসছে না বা নামকরা শ্যাডো প্যালেট দিয়েও যেন আই মেকআপটা মনের মতো হচ্ছে না। বিগেনার অবস্থায় এই সমস্যাগুলো ফেইস করছেন কি? খেয়াল করলে দেখবেন যে মেকআপ টিউটোরিয়ালে প্রফেশনালরা আই বা বেইজ মেকআপে বিভিন্ন টুলস ইউজ করছেন এবং পারফেক্ট মেকআপের জন্য কোন ব্রাশ কিভাবে কাজ করে সেটা প্রতিটা স্টেপে দেখিয়ে দিচ্ছেন। ধরুন, প্রিমিয়াম কোয়ালিটির মধ্যে অ্যাসেনশিয়াল ব্রাশগুলো যদি একটা আকর্ষণীয় ব্যাগে আপনি পেয়ে যান তাহলে কেমন হয়? মাস্ট হেভ একটা মেকআপ ব্রাশ সেট আর মেকআপ ব্রাশ ক্লিনার নিয়ে আমার পারসোনাল এক্সপেরিয়েন্স আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। যেই প্রোডাক্ট-টি নিয়ে আজ কথা বলবো সেটি হচ্ছে গ্রুমি প্রফেশনাল মেকআপ ব্রাশ সেট। বিগেনারদের জন্যও এটা পারফেক্ট কারণ এতে ৭টি বেসিক মেকআপ ব্রাশ আছে, ২টি ফেইসের জন্য এবং বাকি ৫টি আই মেকআপের জন্য।     


গ্রুমি প্রফেশনাল মেকআপ ব্রাশ সেট পরিচিতি 

এই ব্রাশ সেটটিতে মোট ৭টি ব্রাশ রয়েছে। চলুন জেনে নেই কি ধরনের ব্রাশ রয়েছে গ্রুমি প্রফেশনাল মেকআপ ব্রাশ সেটটিতে।


১) ফ্ল্যাট ফাউন্ডেশন ব্রাশ 

ট্র্যাডিশনাল ফাউন্ডেশন ব্রাশ যেটা অনেক আগে থেকে মেকআপ এক্সপার্টরা ব্যবহার করে আসছেন এবং এখনও এটা সমানভাবে জনপ্রিয়। 

এটি দিয়ে আপনি ফেইসে সহজেই ক্রিম ফরমুলেটেড ফাউন্ডেশন (Cream Formulated Foundation) বা লিকুইড ফাউন্ডেশন অ্যাপ্লাই করতে পারবেন। ব্রাশের সঠিক ব্যবহার আপনাকে ফ্ললেস, এয়ার-ব্রাশড লুক দিবে। তাই, স্মুদ বেইজ মেকআপের জন্য এটা অ্যাসেনশিয়াল একটি ব্রাশ।       


২) পাউডার ব্রাশ 

এটা দিয়ে আপনি আন্ডার আই এরিয়াতে লুজ পাউডার লাগিয়ে নিতে পারবেন যাতে আই মেকআপের সময় শ্যাডোর ডাস্ট আপনার বেইজ মেকআপ নষ্ট না করতে পারে, পরে অতিরিক্ত পাউডার ঝেড়ে নিতে পারবেন। এটি ব্যবহার করে আপনি পছন্দমতো ফেইস পাউডার বা লুজ পাউডার দিয়ে মেকআপ সেট করে নিতে পারবেন। 


৩) স্মল কন্সিলার ব্রাশ 

এই ব্রাশটি দিয়ে আপনি আইলিডে আর আন্ডার আই এরিয়ায় ডার্ক সার্কেল হাইডের জন্য এবং আইব্রো ডিফাইনের (Eyebrow Define) জন্য কনসিলার অ্যাপ্লাই করে নিতে পারবেন। এই ব্রাশের সাহায্যে সামান্য কনসিলার নিয়ে মুখে ব্রণের দাগ, পিগমেন্টেশন (Pigmentation) কিংবা ইম্পারফেকশন ঢেকে নিতে পারবেন সহজেই। অনেক সময় আইলাইনার কিংবা লিপস্টিক দিতে গেলে ছড়িয়ে যায়, স্মল কনসিলার ব্রাশ দিয়ে এটা ফিক্স করে নিলেই আপনার প্রবলেম সল্ভড।


৪) স্মল ব্লেন্ডিং ব্রাশ

পারফেক্ট আই মেকআপের জন্য এই ব্লেন্ডিং ব্রাশটা বেস্ট, কারণ এটা দিয়ে আপনি কাট ক্রিস আই লুকে ক্রিস ডিফাইন করতে পারবেন কিংবা আউটার কর্নার স্মাজ করে স্মোকি ভাব আনতে পারবেন। আই মেকআপে এখন বেশ বৈচিত্র্য দেখা যায়, যেমন বিভিন্ন ভাইব্রেন্ট কালারের (Vibrant color) ব্যবহার, সফট গ্ল্যাম লুক, ড্রামাটিক লুক আরও কত কি! স্মল ব্লেন্ডিং ব্রাশ দিয়ে সহজেই আপনি বিভিন্ন আই লুক ক্রিয়েট করতে পারবেন।


৫) ফ্ল্যাট আইশ্যাডো ব্রাশ


নরমালি আই শ্যাডো অ্যাপ্লাই করতে পারবেন এই ব্রাশের সাহায্যে। হাফ কাট ক্রিসের জন্য আইলিডে কনসিলারও লাগিয়ে নিতে পারেন এটি ব্যবহার করে। আইশ্যাডোর ব্যবহার এখন আর পার্টি মেকআপে সীমাবদ্ধ নেই। অনেকে রেগ্যুলার বেসিসে হালকা  আর ন্যাচারাল কালারের শ্যাডো ইউজ করে। এই ব্রাশটাকে আই মেকআপের বেসিক একটা টুল বলা যায়। 


৬) স্মল আইশ্যাডো ব্রাশ

ক্রিসে বা আইলিডে গ্লিটার আইশ্যাডো লাগানোর জন্য স্মল আইশ্যাডো ব্রাশ ব্যবহার করা হয়। চোখের নিচের পাতায় আইশ্যাডো স্মাজ করার জন্যও বেশ উপকারী টুল এটা। ন্যুড বা হোয়াইট কাজল ব্যবহার করলে লোয়ার লাইনে ব্ল্যাক, ব্রাউনিশ বা ভাইব্রেন্ট কালারের আইশ্যাডো অ্যাপ্লাই করে গ্ল্যামারাস লুক ক্রিয়েট করা হয়, সেক্ষেত্রে স্মল ব্রাশ দিয়ে ব্লেন্ড করে নেয়াটা সুবিধাজনক। 


৭) অ্যাঙ্গেলড আইব্রো ব্রাশ 

খুব সহজেই আইব্রো পাউডার কিংবা ব্রো পমেড ব্যবহার করে আইব্রো ড্র করে নিতে পারবেন অ্যাঙ্গেলড এই ব্রাশ দিয়ে। প্রতিদিন বাইরে যাওয়ার সময় আমরা আইব্রোটা ঠিকঠাক করতে অনেকটা সময় নষ্ট করে ফেলি। অ্যাঙ্গেলড আই ব্রো ব্রাশ দিয়ে চট জলদি আপনি ব্রো ড্র করে নিতে পারেন। একবার ব্যবহার করেই দেখুন, এটা আপনার রেগ্যুলার ব্যবহারের প্রোডাক্টের একটি হয়ে যাবে।


গ্রুমি প্রফেশনাল মেকআপ ব্রাশ সেট সাজেস্ট করার কারণ 

পারসোনালি এই প্রফেশনাল মেকআপ ব্রাশ সেটের যে জিনিসগুলো আমার ভালো লেগেছে সেগুলো শেয়ার করছি। গুড কোয়ালিটির একটা লেদার ব্যাগ আর ভেলভেট ইনার কভারিং এই মেকআপ ব্রাশ সেটকে একটা প্রিমিয়াম লুক দিয়েছে।

ট্রাভেল ফ্রেন্ডলি, ইজি টু হ্যান্ডেল, মেকআপের বেসিক সাতটি ব্রাশ একসাথে ক্যারি করা যায়।

লাইট ওয়েট, ব্যাগটার মেসারমেন্ট ২১× ৯.৮ সেমি (হাইট×ওয়াইড)।

এর উডেন হ্যান্ডলটি সহজে নষ্ট হয় না, ওয়াটারপ্রুফ আর কমফোর্টেবল। 

বাজারের অন্য মেকআপ ব্রাশ থেকে কেন এটা আলাদা?

অনেক রকম মেকআপ ব্রাশ সেট এখন বাজারে পাওয়া যায় কিন্তু গ্রুমি প্রফেশনাল মেকআপ ব্রাশ সেটের বিশেষত্ব কি? এই প্রশ্নটা মনে আসছে তো? লোকাল ব্রাশের থেকে এর মূল পার্থক্য হচ্ছে এর ফাইন ফাইবার হেয়ার (Fine Fiber Hair)।  প্রতিটি ব্রাশের ব্রাসেলস সফট আর স্মুদ, সহজে পড়ে যাবে না আর হেয়ার টেক্সচার আপনি হাতে নিয়েই বুঝতে পারবেন। হাই কোয়ালিটির ব্রিসেলে গ্রিপিং পাওয়ার বেশি থাকে, মিনিমাম অ্যামাউন্ট মেকআপ প্রোডাক্ট দিয়ে সুন্দর করে বেইজ মেকআপ করে নিতে পারবেন। বেসিক কয়েকটি ব্রাশের সঠিক ব্যবহার জানলেই ফ্ললেস মেকআপ লুক আপনিও ক্রিয়েট করতে পারেন।    

অনেককেই বলতে শুনি, ফাউন্ডেশন বা কনসিলার লাগানোর পর নাকি ভেসে ভেসে থাকে, ঠিকমতো আই মেকআপ ব্লেন্ড হয়না, ক্রিস ঠিকমতো ডিফাইন হয়না, পারফেক্টলি ব্রো ড্র করতে যেয়ে সময় বেশি লাগছে আরও কত কি! এই অভিযোগগুলো যারা করছেন, তারা এই প্রফেশনাল মেকআপ ব্রাশ সেট ব্যবহার করে দেখুন।


কিভাবে মেকআপ ব্রাশ ক্লিনার দিয়ে ব্রাশের যত্ন নেব?  

মেকআপ ব্রাশের সাজেশন তো পেলেন। সেটা দিয়ে পারফেক্ট মেকওভার করে বাইরে গেলেন, বাইরে থেকে এসে খুব যত্ন করে নিজের মুখটা ক্লিনও করলেন। কিন্তু বাইরে যাওয়ার আগে যে মেকআপ ব্রাশগুলো ব্যবহার করেছিলেন, সেগুলো প্রোপারলি ক্লিন করছেন তো? এটা ঠিক যে নিয়মিত মেকআপ ব্রাশ পরিষ্কার না করলে, ব্রাশে লেগে থাকা প্রোডাক্ট থেকে ফাঙ্গাস (Fungus) আর ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হয়। সেই ব্রাশ বারবার ব্যবহার করলে স্কিনে দেখা দেয় ইচিং, পিম্পল, র‍্যাশ আরও কত সমস্যা।  


মেকআপ ব্রাশ ক্লিনার এবং ব্রাশ পরিষ্কার করার উপায়

ছোট সাইজের, সিলিকন বেইজড মেকআপ ব্রাশ ক্লিনার যেটা দিয়ে যেকোন মেকআপ ব্রাশ ক্লিন করা যাবে। ব্রাশ এগে খাঁজকাটা কিছু অংশ থাকে, যা মেকআপ ব্রাশ থেকে খুব সহজেই ময়লা দূর করতে সাহায্য করে। এটি ব্যবহার করাও খুব সিম্পল। স্টেপস গুলো জেনে নিন।  

একটা ব্রাশ নিয়ে, ব্রাশের ব্রিসেলগুলো পানিতে ভিজিয়ে নিতে হবে। 

তারপর ব্রাশের ব্রিসলগুলো একবার অলিভ অয়েলে হালকা চুবিয়ে এরপর হ্যান্ড ওয়াশে চুবিয়ে নিতে হবে। অথবা একটা মাইল্ড শ্যাম্পু বা ফেইস ক্লেনজার ব্যবহার করতে পারবেন। খেয়াল রাখবেন, ব্রাশের যে অংশ হ্যান্ডেলের সাথে যুক্ত হয়েছে, সেই অংশ যেন পানিতে না 


ভেজে। শুধু ব্রিসল ক্লিন করবেন।      

এবার ব্রাশ এগের খাঁজকাটা অংশের উপর ঘষে নিতে হবে কিছুক্ষণ। দেখবেন ফাউন্ডেশন, ক্রিম বা আইশ্যাডো ফেনার সাথে বের হয়ে আসছে। পরিষ্কার করার সময় বেশি ঘষাঘষি করা যাবে না, এতে ব্রিসেলসগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। 

তারপর পানি দিয়ে ব্রাশের ব্রিসলগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন।   

এবার ব্রাশগুলো আলো বাতাস যুক্ত স্থানে রাখুন। পুরোপুরিভাবে শুকানোর আগে ব্যবহার না করাই ভালো। ব্যস, এটাকে আপনার রুটিনে যোগ করে নিন। আপনার ত্বকের মতো মেকআপ ব্রাশগুলোও এবার যত্নে থাকবে। প্রতিটা ক্ষেত্রেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করুন এবং সুস্থ থাকুন।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here