বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপকে বাঁচানো যাবে কি? - Natore News | নাটোর নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ | বিনোদন খবর

Post Top Ad

Responsive Ads Here
বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপকে বাঁচানো যাবে কি?

বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপকে বাঁচানো যাবে কি?

Share This

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপের নাম অ্যারেসিবো। পোর্টে রিকোর আরেসিবো শহরে অবস্থিত একটি রেডিও টেলিস্কোপ। সম্প্রতি এ টেলিস্কোপ ও এর পরিচালনায় নিয়োজিত মানমন্দিরের দায়িত্ব নিয়েছেন ফ্রান্সিসকো কর্ডোভা। তবে তার মনে এখন একটাই প্রশ্ন, রক্ষা করা যাবে কি অ্যারেসিবোকে? এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।
৩০৫ মিটার ব্যাসের এই টেলিস্কোপটি এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বৃহত্তম একক এন্টেনা। ১৯৬৩ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এই মানমন্দিরটি পরিচালনা করে কর্নেল ইউনিভার্সিটি। এর অন্য নাম ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড আয়োনস্ফেয়ার সেন্টার বা এনএআইসি।
সম্প্রতি তীব্র তহবিল সংকটে পড়েছে অ্যারেসিবো। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এভাবে অর্থসংকট চলতে থাকলে আর চালানো যাবে না অ্যারেসিবোকে। ফলে একে নিশ্চল রেখে দেওয়া কিংবা ধ্বংস করে ফেলাই হতে পারে সমাধান। যে কাজটি সবার কাছেই অনাকাঙ্ক্ষিত। এ কারণে গত ৭ জুন শিক্ষার্থী, গবেষক ও কর্মীদের এক সভায় বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা হয়। কিন্তু কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
কর্ডোভা বলেন, ‘অ্যারেসিবো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা এর সমস্যা সমাধানে একটি উপায় নিশ্চয়ই পাব।’
মার্কিন ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের ওপর অর্থের জন্য নির্ভরশীল এ প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে এ কেন্দ্রটি পরিচালনা করা দুরুহ হয়ে পড়েছে।
বিশাল এই টেলিস্কোপটির সাহায্যে বিজ্ঞানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় গবেষণা পরিচালিত হয়- রেডিও জ্যোতির্বিজ্ঞান, বায়ুবিদ্যা এবং সৌর পদার্থবিজ্ঞান। সৌর জগতের বস্তুগুলোকে রেডারের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করতে এটি ব্যবহার করা হয়।
বেশ কিছু সিনেমাতেও এই আরেসিবোর ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জেমস বন্ডের একটি সিনেমাও। যার শেষ অ্যাকশন দৃশ্য গৃহীত হয় এখানে।
পের্টেরিকোর বহু মানুষের মতোই কর্ডোভা ছোটবেলাতেই এ মানমন্দির পরিদর্শন করেছেন। ৯০০ টনের বিশাল এ প্ল্যাটফর্মটি আকাশ থেকে দেখতে অনেকটা বিশালাকার ডিশ অ্যান্টেনার মতোই দেখায়। এর প্রস্থ এক হাজার ফুট।
এখন পর্যন্ত অ্যারেসিবোর ভবিষ্যৎ কী হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে এ টেলিস্কোপকে সম্পূর্ণ ধ্বংস না করে বিভিন্ন উপায় অবলম্বনের কথা চিন্তা করছেন গবেষকরা।
সম্প্রতি চীন নতুন একটি মানমন্দির তৈরি করছে। সেখানে ফাস্ট নামে একটি বিশাল টেলিস্কোপ বসানো হচ্ছে, যা আকারে অ্যারেসিবোর চেয়ে দ্বিগুণ বড় হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া এ টেলিস্কোপে মোকাশের যতটুকু এলাকা খতিয়ে দেখা যায়, ‘ফাস্ট’ দিয়ে তার চেয়েও দ্বিগুণ এলাকা দেখা যাবে।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here