ভারতের পরমাণুর পাল্লায় চীন - Natore News | নাটোর নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ | বিনোদন খবর

Post Top Ad

Responsive Ads Here
ভারতের পরমাণুর পাল্লায় চীন

ভারতের পরমাণুর পাল্লায় চীন

Share This
অগ্নি-৫ এর প্রাথমিক সফল পরীক্ষা সম্পন্ন চীনের পুরো ভূখন্ড শীঘ্রই ভারতের পরমাণু অস্ত্রের পাল্লার মধ্যে এসে যাবে। চলতি বছরই ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা রয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৫ রেজিমেন্টের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। ক্ষেপণাস্ত্রের ক্যানিস্টার বা খোলস এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে তা সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায নেয়া যায় এবং যত প্রয়োজন তা ব্যবহার করা যায়। টাইমস অব ইন্ডিয়া। ভারত এখন শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরি করা থেকে মাত্র একধাপ পেছনে রয়েছে। ইতোমধ্যেই দেশটি অগ্নি-৫ এর প্রাথমিক সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। ৫ হাজার মাইল পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় চীনের মূলখ- এশিয়ার পুরোটাই চলে আসবে। ইউরোপ ও আফ্রিকারও অংশবিশেষ এর পাল্লার আওতায় পড়বে। সূত্র জানায়, চলতি বছরের মধ্যেই ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রাথমিক পরীক্ষা হবে। এটি অগ্নি-৫ রেজিমেন্টের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। অগ্নি-৫ রেজিমেন্ট বর্তমানে ট্রাই সার্ভিসেস স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের (এসএফসি) আওতায় আছে। এই কাজ সম্পন্ন হলে সামরিক ক্ষমতার দিক দিয়ে ভারত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্সের সমকক্ষতায় পৌঁছে যাবে। উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি দুটো আইসিবিএম পরীক্ষা করেছে। এর জের ধরে ছয় মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক তিক্ত হয়ে রয়েছে। তবে হয়াসং-১৪ ও হয়াসং-১৫ নামের ক্ষেপণাস্ত্র দুটি আসলেই কর্মক্ষম বা এগুলো কোথাও মোতায়েন করা হয়েছে কিনা তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতপার্থক্য রয়েছে। বৃহস্পতিবার এসএফসি প্রথম প্রি-ইন্ডাকশন পরীক্ষা করেছে। ১৭ মিটার দীর্ঘ অগ্নি-৫ একটি ক্যানিস্টারের ওপর বসিয়ে ওডিশা উপকূলের অদূরে অবস্থিত ড. আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। ১৯ মিনিট পর এটি অস্ট্রেলিয়া উপকূল থেকে ৪ হাজার ৯শ’ কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরে পতিত হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রে যে ক্যানিস্টার ব্যবহার করা হয়েছে তা আরও বেশি ধ্বংস ক্ষমতাসম্পন্ন এবং সহজেই মোতায়েন ও ব্যবহার উপযোগী করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি রাডারে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়নের যত দিক পরীক্ষা করা হয়েছে তার সব দিকে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে। ক্যানিস্টারে ঢোকানোর আগে ক্ষেপণাস্ত্রটির সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র সংযুক্ত করা সম্ভব। চীনের বিরুদ্ধে ভারত প্রতিরক্ষামূলক কৌশলগত অস্ত্র তৈরির চেষ্টা অনেকদিন ধরেই করে এসেছে। কারণ, ভারতের দৃষ্টিতে চীন একটি আগ্রাসী ও সম্প্রসারণমূলক শক্তি। উল্লেখ্য, চীনের কাছে পরমাণু বহনক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এসএফসিতে ইতোমধ্যেই পৃথ্বী-২ (৩৫০ কিলোমিটার), অগ্নি-১ (৭শ’ কিলোমিটার), অগ্নি- ২ (হাজার কিলোমিটার) ও অগ্নি-১ (৩ হাজার কিলোমিটার) রেজিমেন্ট করেছে। পাকিস্তানকে বিবেচনায় রেখে এগুলো রেজিমেন্ট করা হয়েছে। এছাড়া চীনের সম্ভাব্য হুমকির কথা বিবেচনায় রেখে উদ্ভাবন করা হয়েছে অগ্নি-৪ (৪ হাজার কিলোমিটার) ও অগ্নি-৫ (৫ হাজার কিলোমিটার)। দেড় টন পরমাণু ওয়ারহেড বহনক্ষম অগ্নি-৫ এর ইতোমধ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষা চারবার সম্পন্ন হয়েছে। ২০১২ থেকে ১৬ সালের মধ্যে এসব পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। অগ্নি-৪ ই পুরো চীন বেজিং থেকে সাংহাই পর্যন্ত অনায়াসে আঘাত হানতে সক্ষম। শুধু তাই নয় ভারত অগ্নি-৫ তৈরির পথে এগোচ্ছে। পরমাণু অস্ত্রসহ যে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা হতে পারে ৫ হাজার কিলোমিটার। ফলে এর আওতায় এসে যাবে পুরো চীন। চীনের যে কোন প্রান্তে দেশের দক্ষিণতম স্থান থেকেও হামলা চালাতে পারবে ভারত।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here