ওজনিয়াকির বাজিমাত - Natore News | নাটোর নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ | বিনোদন খবর

Post Top Ad

Responsive Ads Here
ওজনিয়াকির বাজিমাত

ওজনিয়াকির বাজিমাত

Share This
অবশেষে স্বপ্ন পূরণ। ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের স্বাদ পেলেন ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। শনিবার ফাইনালে শীর্ষ বাছাই সিমোনা হ্যালেপকে হারিয়ে অধরা গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের স্বাদ পেলেন ডেনমার্কের এই টেনিস তারকা। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে এদিন ক্যারোলিন ওজনিয়াকি ৭-৬ (৭/২), ৩-৬ এবং ৬-৪ গেমে পরাজিত করেন রোমানিয়ার সিমোনা হ্যালেপকে। সেই সঙ্গে বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও পুনরুদ্ধার করলেন ওজনিয়াকি। ৪৩তম প্রচেষ্টায় এসে জিতলেন ক্যারিয়ারের প্রথম মেজর টুর্নামেন্টের শিরোপা। ডেনমার্কেরও প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়লেন ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। এমন দিনে দারুণ রোমাঞ্চিত ২৭ বছরের এই টেনিস তারকা। নিজের অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে ওজনিয়াকি বলেন, ‘অনেক বছর ধরেই এই শিরোপার জন্য অপেক্ষা করছিলাম আমি। আমার কণ্ঠ এখনও কাঁপছে। আমি কখনই কাঁদিনি। কিন্তু এই মুহূর্তটা সত্যিই আবেগের। না কেঁদে আর থাকতে পারিনি।’ তবে প্রতিপক্ষ সিমোনা হ্যালেপের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে মোটেও ভুল করেননি ওজনিয়াকি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিমোনা হ্যালেপকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। কেননা, এই দিনটা তারজন্য খুব কষ্টের তা আমি খুব ভাল করেই জানি। এই ম্যাচটা আমার জেতার দরকার ছিল। তাই তার কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি, ভবিষ্যতে আরও বহুবার একে অপরের মুখোমুখি হতে পারি আমরা। যদিওবা আজকের ম্যাচটা ছিল অবিশ্বাস্য। আমরা দুজনেই আজ অবিশ্বাস্য লড়াই করেছি। তাই হ্যালেপের কাছে আমি আবারও দুঃখ প্রকাশ করছি।’ এদিকে বীরের মতো লড়াই করে হেরে যাওয়া সিমোনা হ্যালেপ ক্যারোলিন ওজনিয়াকিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে কথা বলাটা মোটেও সহজ ব্যাপার নয়। তারপরও শুরুতেই আমি ওজনিয়াকিকে অভিনন্দন জানাতে চাই। বিস্ময়কর টেনিস খেলেছে সে। আমার জন্যও এই টুর্নামেন্টটা দারুণ কেটেছে। শিরোপা জিততে না পারার হতাশা ছুঁয়ে গেছে আমাকেও। সে জন্য আমিও খুব কষ্ট পেয়েছি কিন্তু ওজনিয়াকি আমার চেয়েও অনেক ভাল পারফর্ম করেছে।’ ক্যারোলিন ওজনিয়াকির জন্য এটা ছিল গ্র্যান্ডস্লামের তৃতীয় ফাইনাল। সিমোনা হ্যালেপেরও ঠিক তাই। তবে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন ওজনিয়াকিই। তবে রোমানিয়ান তারকার বিশ্বাস, এবার না হলেও চতুর্থবারে হবে। এ প্রসঙ্গে নিজের অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার পারিনি বলে হতাশ হচ্ছি না আমি। বরং লড়াই চালিয়ে যেতে চাই সবসময়ই। আজ যেমনটা খেলেছি আশাকরি এমন চ্যালেঞ্জ ভবিষ্যতে আরও গ্রহণ করতে পারব। তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় আমি পারিনি বলে দুঃখিত তবে চতুর্থবারে ভাগ্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলেই বিশ্বাস করি আমি।’শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে দুই ঘণ্টা ৪৯ মিনিট কোর্টে ছিলেন ওজনিয়াকি-হ্যালেপ। এই যুদ্ধ জয়ের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে ক্যারোলিন ওজনিয়াকিকে। এ জন্য তাকে লড়াই করতে হয়েছে গত এক দশকেরও বেশি সময়। সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২৭টি ডব্লিউটিএ শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। কোন গ্র্যান্ডস টুর্নামেন্ট জয়ের স্বাদ পাচ্ছিলেন না তিনি। তবে ব্যর্থতার কারণে কখনই নুইয়ে পড়েননি ওজনিয়াকি। প্রতিটি টুর্নামেন্টেই নতুন প্রত্যয় নিয়ে কোর্টে নামেন ড্যানিশ টেনিস তারকা। গত বছরেও মেজর কোন শিরোপার স্বাদ না পাওয়া ড্যানিশ টেনিস তারকা বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলে বছরের পুরোটা সময়েই ছিলেন আলোচনার তুঙ্গে। তবে নতুন মৌসুমেই নতুন উদ্যমে কোর্টে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। ২০০৫ সালে কয়েকটি জুনিয়র টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে সে বছরেই টেনিস কোর্টে আলো ছড়িয়ে প্রাদপ্রদীপের আলোয় ওঠে আসেন ওজনিয়াকি। তবে সিনিয়র পর্যায়ে বিশ্ব টেনিসপ্রেমীদের নজরে আসেন ২০০৯ সালে। নবম বাছাই হিসেবে ইউএস ওপেনে খেলতে নেমে সেবারই ফাইনালে জায়গা করে নেন তিনি। ডেনমার্কের প্রথম প্রমীলা খেলোয়াড় হিসেবে কোন গ্র্যান্ডস মের ফাইনাল খেলার বিস্ময়কর কীর্তি গড়েন ওজনিয়াকি। কিন্তু ফাইনালে বেলজিয়ামের কিম ক্লাইস্টার্সের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তার। তবে পরের বছরই নতুন কীর্তি গড়েন। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি দখল করে নেন তিনি। টেনিস ইতিহাসের পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে কোন গ্র্যান্ডসম না জয়ের পরও র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার বিরল কীর্তি গড়েন ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। ২০১০ সালের অক্টোবর থেকে ২০১২ জানুয়ারির মধ্যে ৬৭ সপ্তাহ ছিলেন র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। সেই ড্যানিশ টেনিস তারকা যেন ক্রমেই হারিয়ে যেতে থাকেন। তবে দমে যাননি ২৭ বছরের এই খেলোয়াড়। এবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পেলেন তারই পুরস্কার।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here