প্রচলিত এনগেজমেন্ট ও ইসলামের নির্দেশনা - Natore News | নাটোর নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ | বিনোদন খবর

Post Top Ad

Responsive Ads Here
প্রচলিত এনগেজমেন্ট ও ইসলামের নির্দেশনা

প্রচলিত এনগেজমেন্ট ও ইসলামের নির্দেশনা

Share This
আমাদের সমাজে প্রচলিত এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠান ইসলাম সমর্থিত না। ইসলামে এর কোন নজির নেই। মূলত এটা বিধর্মীদের রীতি। এনগেজমেন্টকে কেন্দ্র করে সাধারণত যে সমস্ত কাজ হয়ে থাকে তা ইসলামে নিষিদ্ধ।

মেয়ের হাত ছেলে স্পর্শ করে আংটি পড়িয়ে থাকে। এনগেজমেন্ট হয়ে গেলে তো কথাই নাই। তখন ছেলে-মেয়ের মিলামেশা অনেকটা স্বামী-স্ত্রীর মতোই পরিলক্ষিত হয়। কথা-বার্তা, ফোনালাপ, দেখা-সাক্ষাত, ঘুরা-ফেরা, কমিউনিকেশন ইত্যাদি অবলীলায় চলতে থাকে। উভয় পক্ষের গার্ডিয়ানরাও সাধারণত এতে কোন আপত্তি করে না। অথচ এমন অনেক ঘটনাই আছে’ এনগেজমেন্ট হয়ে বিয়ের আগ মূহুর্তে গিয়েও বিবাহ ভেঙে যায়।

ইসলামের নির্দেশনা হলো বিয়ে তথা ইজাব-কবুলের পূর্বে ছেলে মেয়ের যে কোন ধরনের মিলামেশা হারাম। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, এদেরকে (পূর্বে উল্লেখিত মাহরাম মহিলাগণ) ব্যতীত তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য, ব্যভিচারের জন্য নয়। (সূরা নিসা-24)

অর্থাৎ কোন মেয়ে বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার পূর্বে যে কোন ধরনের মিলামেশা ব্যাভিচারের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে। এনগেজমেন্টের দোহাই দিয়ে বিয়ের পূর্বে কোন ধরনের মিলামেশা করা যাবে না। এটা মারাত্মক অন্যায়। গোনাহের কাজ। আর বিবাহ বন্ধনের পর স্ত্রীর সাথে আনন্দ চিত্তে কথা বলা, ঘুরাফেরা করা, ফূর্তি করা, হাসি-ঠাট্টা করা, দুষ্টুমি করা, আনন্দ-উল্লাস করা, রোমাঞ্চ করা, মজা করা সহ সকল মিলামেশাই সওয়াবের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি স্ত্রীর সাথে নিজের খাহেশাত পুরা করলেও আল্লাহ্ সাদকার সাওয়াব দেন।

হযরত আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, কয়েকজন সাহাবী রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ধনীরা তো বেশী নেকীর অধিকারী হয়ে গেল। তারা নামায পড়ছে যেমন আমরা নামায পড়ছি, তারা রোযা রাখছে যেমন আমরা রাখছি এবং (আমাদের চেয়ে তারা অতিরিক্ত এই কাজ করছে) নিজেদের প্রয়োজন-অতিরিক্ত মাল থেকে তারা সাদকা করছে।

তিনি বললেন, আল্লাহ কি তোমাদের জন্য সাদকা করার মত জিনিস দান করেননি? নিঃসন্দেহে প্রতিটি তাসবীহ সাদকা, প্রতিটি তাকবীর সাদকা, প্রতিটি তাহলীল সাদকা, ভাল কাজের আদেশ করা সাদকা ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা সাদকা এবং স্ত্রী মিলন করাও সাদকা।

সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কেউ যদি স্ত্রী মিলন করে নিজের যৌনক্ষুধা নিবারণ করে, এতেও কি সে সাওয়াব পাবে? তিনি বললেন, তোমরা কি মনে কর যদি কেউ অবৈধভাবে যৌন মিলন করে, তবে কি তার পাপ হবে? অনুরূপভাবে যদি সে বৈধভাবে স্ত্রী মিলন করে নিজের কামক্ষুধা নিবারণ করে, তবে সে সাওয়াব পাবে” (মুসলিম- 2376)।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here